অপহরণের ৬ দিন পর পাহাড়ি এলাকা থেকে ৩ জন উদ্ধার

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ অভিযানে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় ভিকটিমদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার (ল’ এন্ড মিডিয়া) আ.ম. ফারুক।
র‍্যাব-১৫ জানায়, গত ১০ এপ্রিল রাজমিস্ত্রির কাজের প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডেকে নিয়ে তিনজনকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের সিএনজিযোগে রাজারছড়া এলাকার করাচি পাড়ার গহীন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। এ সময় অপহরণকারীরা ভিকটিমদের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগীদের পরিবার ১২ এপ্রিল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় র‍্যাব। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে বাহিনীটি।
র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের করাচি পাড়া সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা ও হ্নীলা বাজারে একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা জঙ্গলে পালিয়ে যায় এবং ভিকটিমদের ফেলে রেখে যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— জাকির আহাম্মদ (৪২), নুর হোসেন (২২) ও আয়াত উল্যাহ (২২)। তারা কক্সবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ মুহুরী পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র‍্যাব জানায়, উদ্ধারকৃতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও সংঘবদ্ধ চক্রগুলো বিভিন্ন কৌশলে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
তবে র‍্যাব বলছে, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।