
ফেসবুক পোস্ট দিয়ে কুমিল্লায় নিজ বাসায় ফাইরোজ অবন্তিকা নামের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে তার সহপাঠীরা। এসময় মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। এমন প্রেক্ষাপটে ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন উপাচার্য সাদেকা হালিম।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া অতীতের সকল যৌন হায়রানির ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ওই শিক্ষার্থীর নাম ফাইরোজ অবন্তিকা। শুক্রবার রাতে ফাইরোজকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফাইরোজ লিখেছেন, ‘আমি যদি কখনো সুইসাইড করে মারা যাই তবে আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে আমার ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী, আর তার সহকারী হিসেবে তার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে সাপোর্টকারী জগন্নাথের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম। আম্মান যে আমাকে অফলাইন অনলাইনে থ্রেটের উপর রাখতো সে বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেও আমার লাভ হয় নাই। দ্বীন ইসলাম আমাকে নানাভাবে ভয় দেখায় আম্মানের হয়ে যে, আমাকে বহিষ্কার করা ওনার জন্য হাতের ময়লার মতো ব্যাপার।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমি জানি এখানে কোনো জাস্টিস পাবো না। কারণ দ্বীন ইসলামের অনেক চামচা ওর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। এই লোককে আমি চিনতাম ও না। আম্মান আমাকে সেক্সুয়ালি এবিউজিভ কমেন্ট করায় আমি তার প্রতিবাদ করলে আমাকে দেখে নেয়ার জন্য দ্বীন ইসলামের শরণাপন্ন করায়। আর দ্বীন ইসলাম আমাকে তখন প্রক্টর অফিসে একা ডেকে নারী জাতিয় গালিগালাজ করে। সেটা অনেক আগের ঘটনা হলেও সে এখনো আমাকে নানাভাবে মানহানি করতেসে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন কথা বলে। আর এই লোক কুমিল্লার হয়ে কুমিল্লার ছাত্র কল্যাণের তার ছেলেমেয়ের বয়সী স্টুডেন্টদের মাঝে কী পরিমাণ প্যাঁচ ইচ্ছা করে লাগায় সেটা কুমিল্লার কারো সৎসাহস থাকলে সে স্বীকার করবে। এই লোক আমাকে আম্মানের অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে ৭ বার প্রক্টর অফিসে ডাকায়…।’
ফাইরোজ সহকারী প্রক্টর সম্পর্কে আরও লিখেছেন, ‘তিনি বলেছেন, তোরে যদি এখন আমার জুতা দিয়ে মারতে মারতে তোর ছাল তুলি তোরে এখন কে বাঁচাবে? আফসোস এই লোক নাকি ঢাবির খুব প্রমিনেন্ট ছাত্রনেতা ছিল। একবার জেল খেটেও সে এখন জগন্নাথের প্রক্টর।’