জুলাই মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে ইউপি সচিব

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মেজবা উদ্দিন সম্রাট জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হলেও এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া তিনি ভিজিডি কর্মসূচির চাল বিতরণে উপকারভোগীদের কাছ থেকে গণহারে ৪৫০ টাকা করে অতিরিক্ত চাঁদা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মেজবা উদ্দিন সম্রাট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি জুলাই হত্যা মামলার আসামি। সেই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং কাদের খানসহ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা আসামি হিসেবে রয়েছেন। পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার নির্দেশে হত্যার উদ্দেশে গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে মোহাম্মদপুর আমলী আদালতের সিআর ৯৩১/২০২৪ এর ওই মামলায়।

এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সচিব মেজবা উদ্দিন সম্রাট আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় বহু দুর্নীতি করেছে। জুলাইয়ে তিনি বৈষম্যবিরোধী অবস্থানে ছিল। এমনকি গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি হিসেবে তার জেলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু টাকার জোরে সে এখনও বহাল তবিয়তে ইউনিয়ন পরিষদে চাকরি করে যাচ্ছে। এমনকি সে এখনও পর্যন্ত মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরকারের কাছে আমরা তাকে বরখাস্ত করে গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে প্রিয়দেশ নিউজের কাছে আসা কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২৫ নভেম্বর সকালে বিতরণের সময় ভিজিডির তালিকায় থাকা লোকজনের কাছ থেকে ইউপি সচিব মেজবা উদ্দিন সম্রাটের নাম করে টাকা নেয়া হয়। মানুষের কাছ থেকে সরাসরি টাকা সংগ্রহ করেন ইউনিয়ন পরিষদের জামাল চৌকিদার। তিনি বলেন, সচিবের নির্দেশে আমি টাকা নিই; এখানে আমার কোনো দোষ নেই।

শম্ভুপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মেজবা উদ্দিন ঢাকায় তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলা থাকার কথা প্রিয়দেশ নিউজের কাছে স্বীকার করেছেন। ভিজিডির চাল বিতরণে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমে ট্যাক্স বাবদ ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। জনগণ টাকা দিতে না চাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে বলেছেন টাকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির সাথে ছবি থাকার বিষয়টিও সত্য বলে তিনি জানিয়েছেন। মেজবা উদ্দিন বলেন, বিএনপির দু’টি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়।

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ইউপি সচিব মেজবা উদ্দিন সম্রাট

তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাচেষ্টার মামলা থাকার কথা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিজিডির চাল বিতরণ করে টাকা নেওয়ার বিষয়ও আমি জানি না, জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে তজুমদ্দিন উপজেলার প্রাক্তন (তৎকালীন) ইউএনও শুভ দেবনাথ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, অতিরিক্ত চাঁদা নেয়ার কথা শুনেছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।