বুড়ির ঝুপড়িতে ইউএনও: দিলেন ঘর, নিলেন মেয়ের পড়াশুনার দায়িত্ব

12

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক: প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান স্বামী। শ্রমিক স্বামী প্রাণ হারায় চিকিৎসা অভাবে। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন সুরামনি (৬৫)। কোনো সহায়সম্বল না থাকায় আশ্রয় হয় দশমিনা-গলাচিপা-লেবুখালী আঞ্চলিক সড়কের বাউফল উপজেলার বগা বন্দরের একটু পশ্চিমে রাস্তার পাশে পুরানো কাপড়, পলিথিন, প্লাস্টিক ও কয়েকটি দিনের মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে। যেখানে রান্না, সেখানেই থাকা- খাওয়া। দুই বছর ধরে রাস্তার ধুলাবালি, বৃষ্টির পানি আর শীতের কনকনে ঠান্ডার সাথে যুদ্ধ করে বসবাস। কেউ কখনো পাশে দাড়ায়নি, বাড়িয়ে দেয়নি সহায়তার হাত। এমনকি সরকারের কোনো সহায়তাও জুটেনি বুড়ি সুরামনির কপালে। সম্প্রতি ওই পথে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শেন যাওয়ার সময় ঝুপড়ি ঘরটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজীর নজরে পড়ে। গাড়ি থামিয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি। সুরামনির জন্য সরকারি ঘর, মেয়ের পড়াশুনার খরচের দায়িত্ব দেন মানবিক এ উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সুরামনি, তার ছেলে গোপাল মিস্ত্রি ও মেয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুরামনির স্বামী যুগল মিস্ত্রি শ্রমিকের কাজ করতেন। থাকনে অন্যের বাড়িতে। পাঁচ বছর আগে মারা যান যুগল মিস্ত্রি। দুই সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন সুরামনি। হয় রাস্তার পাশে পুরানো কাপড়, পলিথিন, প্লাস্টিক আর কয়েক টিনের মোড়ানো ঝুপড়িতে ঠাঁই হয় মাথা খোঁজার। সুরামনি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করেন। ছেলে লঞ্চে পানি বিক্রি করেন। তাদের আয়ে কোনো রকম আহার জোটে। মেয়ে বগা বালিকা ম্যাধমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। এভাবে কেটে গেল দুই বছর। তাদের দুঃখ কষ্টের অবসান হয়েছে। তাদের মুজিব বর্ষের পাকা ঘর, মেয়ের পড়াশুনার খচর, ৫০কেজি চাল ও কিছু নগদ টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইউএনও। এতে হাসি ফুটেছে পুরো পরিবারে।

উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. সবুজ বলেন, গত রবিবার বগা ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজের পাশে মুজিববর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ পরির্দশনে যান ইউএনও। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ঝুপড়ি ঘরটি ইউএনও নজরে পড়ে। গাড়ি থামিয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি। তাৎক্ষনিক মুজিববর্ষের ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করেন। স্কুল পড়ুয়া মেয়ের পড়াশুনার দায়িত্বও নেন তিনি। বুধবার তারা নতুন ঘরে উঠবে।

ঘূর্ণিঝড় হামুন আসার খবরে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে ওই বুড়ির ঝুপড়িতে চলে যান ইউএনও। খোঁজ খবর নেন তাদের। তাদের ৫০ কেজি চাল ও নগদ কিছু টাকাও উপহার নিয়ে যান ইউএনও।

অনেক দিন পর সুরামনির মলিন মুখে হাসি ফুটেছে। তিনি বলেন, আমাগো কষ্ট দূর হইছে। স্যারে আমাগো ঘর দিছে। আমার মাইয়ার পড়ার খরচ দিবে। চাউল আর টাহাও দিছে। এহন মরার আগে একটু শান্তিতে মরতে পারমু।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন হতদরিদ্র মানুষের জন্য পাকা ঘর দিচ্ছেন। সুরামনির মত এমন একটি অসহায় পরিবারকে সেই ঘর দিতে পরে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া প্রকল্প সার্থক হয়েছে।