তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযানের খবরে উধাও বালুখেকো চক্র

12

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক: বালুমহল ইজারা না থাকা স্বত্বেও পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে আসছিল বালুখেকো একটি চক্র। প্রিয়দেশ নিউজে এ নিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর ‘তেঁতুলিয়ার তলদেশ গিলে খাচ্ছে বালুখেকো মোশারেফ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের।

এরপরই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। তবে রহস্যজনকভাবে অভিযানের খবর বালুখেকো চক্রের প্রধানের কাছে পৌঁছে যায়। ভোরের আলো ফোটার আগেই বালু উত্তোলন করার ড্রেজারসহ সরঞ্জাম উধাও হয়ে যায় চক্রটি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অভিযানে নামেন ইউএনও মো. বশির গাজী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক কুমার কুন্ডু, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনস্থল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরব্যারেট এলাকায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি বালু উত্তোলনের ড্রেজারসহ সকল নৌযান নিয়ে উধাও হয়ে যায় চক্রটি।

আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়ার তলদেশ গিলে খাচ্ছে বালুখেকো মোশারেফ

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল বরদারের ছেলে যুবলীগ নেতা মোসারেফ দীর্ঘদিন ধরে তেঁতুলিয়া নদীর চরব্যারেট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। স্থানীয়রা বাঁধা দিলেও তাদের হুমকিও দেয় মোসারেফের লোকজন। এ বালুখেকো চক্রের সাথে বাউফল, দশমিনাসহ ভোলা-পটুয়াখালীর বড় একটি চক্র জড়িত। দিনে ওই নদী থেকে প্রায় ৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হত। ৮ টাকা ঘনফুটে যার মূল্য ৩২ লাখ। আর মাসে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার বালু বিক্রি করত চক্রটি।

এ নিয়ে প্রিয়দেশ নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। গতকাল অভিযানে নামে প্রশাসন। তবে অভিযানে নামের আগের রাতে ওই এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান মোসারেফের লোকজন।

বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত একটি সূত্র জানায়, মোসারেফের অবৈধবালু ব্যবসার সাথে ভোলার প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির আত্মীয়রা জড়িত। এছাড়াও পটুয়াখালীর বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপার একাধিক প্রভাবশালী নেতাও জড়িত। অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে প্রশাসনের অভিযানের খবর স্থানীয় একটি সূত্রের মাধ্যমে মোসারেফের কাছে পৌঁছে যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। আমরা অভিযানে নেমেছি। যদিও তারা টের পেয়ে পালিয়ে যায়। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার চেষ্টা করা হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা এ বালু চক্রের সাথে জড়িত, তাদের সিন্ডিকেট থাকে। একই সাথে তারা খোঁজখবরও রাখেন। হয়তো তারা জেনে গেছে প্রশাসন অভিযানে নামবে, তাই আগেই পালিয়ে গেছে।