ভোলার লালমোহনে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রায় সন্ত্রাসী হামলা

14

ভোলা জেলা প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন শোভাযাত্রায় যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী। আহতদের মধ্যে মমিন নামে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে। বাকিরা লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। জানা গেছে, হামলার সময় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের বহন করা একটি মাইক্রোবাসসহ অন্তত ১৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

শনিবার রাতে উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার ও চরভূতা ইউনিয়নের হরিগঞ্জ বাজার এলাকায় পৃথক সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

লালমোহন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবুল হাসান রিমন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারে আমাদের পূর্বনির্ধারিত উন্নয়ন সমাবেশ ছিল। এসময় ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নসুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যুবলীগের এই নেতা আরও জানান, সেখান থেকে আমরা ফিরে আসার সময় চরভূতা ইউনিয়নের হরিগঞ্জ বাজারে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্বনির্ধারিত উন্নয়ন সমাবেশে হামলা চালায় আবু নোমান হাওলাদারের অনুসারী ও সাবেক চেয়ারম্যান হোসেন হাওলাদার এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। সেখানে আমাদের লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া আমাদের অবরুদ্ধ করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়। তখনও ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের সামনেই আমাদের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। হাজিরহাট বাজার ও হরিগঞ্জ বাজারের ঘটনায় আমাদের ১৩টি মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। এই দুই ঘটনায় আমাদের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নসুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে হোসেন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বহিরাগত লোকজন প্রবেশ করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু নোমান হাওলাদারের স্থানীয় সমর্থকরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এ সময় ওইসব বহিরাগত লোকের হামলায় আমাদেরও ৪ জন আহত হন। আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না, তবে বিষয়টি শুনেছি।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাহবুব উল আলম জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমরা যাওয়ার আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। অভিযোগ বা মামলা হলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।