বাঁচতে চান জবি’র সাবেক শিক্ষার্থী শাকিল

14

জাহাঙ্গীর আলম, জবি প্রতিনিধি: দূরারোগ্য ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)-এর সাবেক শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হক শাকিল। খুব দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ডাক্তার জানিয়েছেন এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আনুমানিক ৬০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন, যা এমুহূর্তে কোনভাবেই শাকিল ও তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই বেঁচে থাকার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য সকলের দোয়া ও সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যম:
মোসলেমা খাতুন (মা) A/C : 0216201006780
রাউটিং নম্বর : 200331458
সোনালী ব্যাংক, আনসার ভিডিপি শাখা, সফিপুর, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

মো: নুরুল আমিন
বিকাশ 01760588763
নগদ :01814000763

নুরুজ্জামান বাদশা
বিকাশ, নগদ : 01714748649

জুয়েল রানা
বিকাশ/ নগদ/ রকেট 01933173750

মৃদুল হাসান
বিকাশ : 01728982484

উল্লেখ্য, মোজাম্মেল হক শাকিল একজন মানবিক মানুষ। ভাউমান টালাবহ গ্রামের মরহুম আব্দুর রহমান এর কনিষ্ঠ পুত্র শাকিল ২০০৪ সালে রাজাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি, ২০০৬ সালে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ হতে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে ৭০ নং কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এনটিআরসিএ- এর মাধ্যমে ভৃঙ্গরাজ তালিবাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে বর্তমানে কর্মরত আছেন।

কিশোর বয়স থেকেই শাকিল মানুষের জন্য এক নিবেদিত প্রাণ। আজ অব্দি ৩৫ জন মানুষকে তিনি রক্তদান, শতাধিক মানুষের জন্য জরুরী মুহূর্তে রক্ত সংগ্রহসহ ভাউমান টালাবহ গ্রামের প্রায় ৭০০ এর অধিক মানুষের ব্লাডগ্রুপ বিনামূল্যে নির্ণয় কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

ভাউমান টালাবহ গ্রামে আজ শিক্ষা-উন্নয়নের যে ধারা প্রবহমান তাতে শাকিল ও তার পরিবারের ভূমিকা অগ্রগণ্য। শাকিলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় অনেক ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষার দ্বারে উপনীত হয়েছেন এবং পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই সরকারি/বেসরকারি চাকরি প্রাপ্তিসহ বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

ভাউমান টালাবহ ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট’স এ্যাসোসিয়েশন গঠন, প্রতি বছর কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মিষ্টি বিতরন অনুষ্ঠান, বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা মনিটরিংসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শাকিল এক নিবেদিতপ্রাণ।

এছাড়া তিনি কালিয়াকৈর ভার্সিটি সার্কেল, প্রগতিশীল ফোরাম, রক্তদান গ্রুপ, জবি এলামনাই সহ অনেক সংগঠনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। তিনি সুস্থ থাকা অবস্থায় ছাত্রছাত্রীদেরকে সরাসরি আর্থিক সহযোগিতা, পরীক্ষার ফরম ফিলাপ, বই কিনে দেওয়া, কোচিং এ ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। শুধু ভাউমান টালাবহ গ্রাম না, এমন পরোপকারী, মানবিক, সাংগঠনিক একজন মানুষ গোটা বাংলাদেশেই বিরল!