পর্তুগালে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে সেজদা নামক ‘কাগজ মাফিয়া’

36

পর্তুগাল প্রতিনিধি: পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অভিবাসন সংক্রান্ত ভুয়া নথি বিক্রি করার অভিযোগে বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে অভিযান চালিয়েছে দেশটির ফরেন অ্যান্ড বর্ডার সার্ভিস- সেফ। তারা বিদেশি, বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের বসবাসের অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রতারণামূলকভাবে অবৈধ অভিবাসন এবং নথি জালিয়াতির অপরাধে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পর্তুগাল।

অপারেশন ‘রাইট টাইম’ নামে এ অভিযান পরিচালনা করেন সেফ-এর ১০ জন পরিদর্শক। এসময় কয়েকটি কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ডকুমেন্ট জব্দ করা হয়।

অভিযানের পর সেফ’র ফেসবুক পোস্টে দুটি ছবি শেয়ার করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। ওই ছবিতে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহেদুল ইসলাম ও আকিব রাহমানের নাম সুস্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এদের সাথে জালিয়াত চক্র পরিচালনায় সিলেটের সাহেদ আহমেদ তামজিদ নামের একজনও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সেফ জানায়, প্রতারক চক্রটি একটি কোম্পানির মাধ্যমে মার্টিম মনিজ এলাকায় রুয়া ডো বেনফর্মোসোতে ভুয়া নথি ও কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণা করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়াও সংস্থাটি পর্তুগিজ আবাসিক পারমিট পাওয়ার অনুমতি সংক্রান্ত ভুয়া প্রত্যায়িত নথি সরবরাহ করেছিল।

পর্তুগালে অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা সেফ’র ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট সেজদার সাহিদুল ইসলাম ও আকিব রহমানের নাম

অভিবাসন সংক্রান্ত এমন নথি জালিয়াতির বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছে না পর্তুগাল। সেখানকার সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই বিষয় নিয়ে খুবই অসন্তুষ্ট। এমন প্রেক্ষাপটে নথি জালিয়াত চক্রকে পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমে ‘পেপার্স মাফিয়া বা কাগজ মাফিয়া’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এর ফলে পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অজানা আশংকায় রয়েছেন।

পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষের অভিযানের পর খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটির মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন অভিবাসন প্রত্যাশী বহু বাংলাদেশী, পাকিস্তানি এবং ভারতীয় নাগরিক। এছাড়াও চক্রটি সেজদা এন্টারপ্রাইজ, সেজদা কনসালটেন্সি, সেজদা ট্রাভেল, সেজদা হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম নামে অনেকগুলো অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিল।

এই চক্রটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সেজদা মানি ট্রান্সফার। এটি মূলত হুন্ডি কারবারে অভিযুক্ত। এর মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে লাখ লাখ ইউরো মানি লন্ডারিং করে থাকে বলে অভিযোগে জানানো হয়। এটির পরিচালনা দায়িত্বে রয়েছেন আকিব রহমান ও সাহেদুল ইসলাম। এছাড়া তাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সেজদা কনসালটেন্সির মূল দায়িত্বে রয়েছেন সাহেদ আহমেদ তামজিদ। এই কনসালটেন্সির ব্যানারে তারা অবৈধ ঠিকানা বিক্রি, অবৈধ কোম্পানির কন্ট্রাক্ট বিক্রি, ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে দেওয়া, ৫০০ ইউরোর বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিসহ সকল প্রকার অবৈধ সিল ব্যবহার করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রসেস করে থাকে। প্রত্যেক লাইসেন্স বাবদ তারা ২-৩ হাজার ইউরো করে নিতো। এভাবেই তারা লাখ লাখ ইউরো হাতিয়ে নিয়েছে।

সেজদা টাওয়ারের পক্ষ থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহেদ আহমেদ তামজিদ। পর্তুগালে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে তারা জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে তামজিদ মারামারি সংক্রান্ত মামলার কথা বললেও সেফ’র শেয়ার করা ফেসবুক পোস্টে তাদেরকে জালিয়াত চক্র উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে নথি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস পর্তুগালের ফার্স্ট সেক্রেটারি আলমগীর হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, নথি জালিয়াতি করে প্রতারণামূলক অভিবাসনের অভিযোগে কয়েকজন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযান ও মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ থেকে সবার বিরত থাকা উচিৎ।