খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিনিময়ে নির্বাচনে আসার চাপে বিএনপি?

9

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। বিএনপি অব্যাহতভাবে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসলেও ক্ষমতাসীন সরকার তা বারবার নাকচ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবারের আবেদন যাওয়ার পর আবারও বেশ আলোচনায় আসে বিষয়টি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপিও খুজতে থাকে বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বের চারটি দেশে হাসপাতালের খোঁজখবর নেন।

পরিবারের এক সদস্য তখন বলেছিলেন, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে এর উন্নত চিকিৎসা আছে। তাই তারা ওই দেশগুলোয় খালেদা জিয়ার জন্য উপযুক্ত হাসপাতালের সন্ধান করছেন, যাতে তারা অনুমতি পাওয়ামাত্র অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বাইরে নিতে পারেন।

তবে এরমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, বিদেশে যাওয়ার আবেদন করতে হলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফেরত গিয়ে করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হলে এখন যে সাজা স্থগিত করে তাকে বাসায় থাকার অনুমতি দিয়েছি, তা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। আবার তাকে জেলে যেতে হবে, আদালতে যেতে হবে। আদালতের কাছ থেকে তাকে অনুমতি নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কোনো শর্ত মেনে খালেদা জিয়া বিদেশে যাবেন না। গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির জন্য রাজনৈতিক কিছু শর্ত দিতে চায়। এছাড়া চিকিৎসার ক্ষেত্রেও কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে দিতে চায়। সেক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কিংবা এশিয়ার কোনো দেশে চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু বিএনপি চায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অস্ট্রেলিয়া।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকার বিএনপিকে কী ধরনের রাজনৈতিক শর্ত দিতে চায়? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির একাধিক সূত্র একই ধরনের জবাব দিয়েছে। তারা বলছে, এই মুহূর্তে সরকারের জন্য অতীতের মতো করে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার স্বাভাবিকভাবেই চাইবে বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসুক। বিএনপি যদি নির্বাচনে আসার নিশ্চয়তা দেয় তাহলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পছন্দমতো দেশে হতে পারে। নাহলে তাকে দেশে ঘরবন্দি রাখতেই পছন্দ সরকারের। তবে খালেদা জিয়া কোনো ধরনের শর্ত মেনে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবেন না। ওয়ান ইলেভেনের সময়ই তিনি আপোষ করে বিদেশে যাননি, আর এখন তো আপোষ করে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। কোনো শর্ত নাই, ১/১১ এর সময় অন্যরা দেশের বাহিরে গেছে কিন্তু আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া দেশের মাটি ছেড়ে যাননি। ৪০১ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে সরকার চাইলে আইনের মধ্যে যেকোন নাগরিকের সাজা মওকুফ করে দিতে পারে, কিন্তু তারা এখন মিথ্যাচার করছে। তাহলে আওয়ামী লীগ সরাসরি বললেই তো পারে তারা খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়। নির্বাচন নির্বাচন করে এবার কোনো লাভ নেই। আগে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। এরপর নির্বাচনের কথা আসবে।