বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত

9

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপি সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে এক পুলিশ নিহত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত পুলিশ সদস্যের পরিচয় জানা যায়নি। দৈনিক বাংলা ক্রসিংয়ের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ পড়ে ছিল।

বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাসস জানায়, পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে আরও ১১ জন পুলিশ সদস্যকে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত নিয়ে ভর্তি করা হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল ঢাকায় একই সঙ্গে সমাবেশের ডাক দেয়। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আধা-সামরিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি শহরের কিছু অংশে পুলিশের সাথে সংঘর্ষেলিপ্ত হয় ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি কর্মীরা কাকরাইল, শান্তিনগর ও মালিবাগ এলাকায় বেশ কয়েকটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করে। তারা রাজারবাগ এলাকায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সামনে অগ্নিসংযোগ, কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

বিএনপি কর্মীদের নিবৃত্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ও লাঠি চার্জ করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্বরত ছিলেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি নেতা-কর্মীরা সরকারি স্থাপনা ও সম্পত্তিতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‘এই হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়’।

অন্যদিকে বিএনপি তাদের পরিকল্পিত সমাবেশে পুলিশের কর্মকাণ্ডকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করে এর প্রতিবাদে আগামীকাল দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। একই সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে হাজার হাজার সমর্থককে একত্রিত করে একটি ‘শান্তি সমাবেশ’ করে।

দু’পক্ষের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঠেকাতে দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা জলকামানসহ সঙ্গে পুরানা পল্টন এলাকায় দীর্ঘ বাফার জোন গড়ে তোলে।

পুলিশ গত রাতে শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষকে তাদের পছন্দের জায়গায় তাদের পরিকল্পিত সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। নেতাকর্মীদের বাঁশের লাঠির মতো কিছু বহন করতে বাধা দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি শর্তে তাদের এই অনুমতি দেয়া হয়।

শহরের বেশিরভাগ এলাকায় দোকান ও শপিং কমপ্লেক্সের মালিকরা সহিংসতার ভয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। শহরে যান চলাচলও কম ছিল।

বিএনপির মিত্র জামায়াতে ইসলামী এর আগে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৃথক সমাবেশের ঘোষণা দিলেও তাদের কর্মী-সমর্থকরা শাপলা চত্বরে সমাবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।