স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার হাতে যাচ্ছে? রজার খলিল ইস্যুতে, সায়ের

অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে রজার খলিলের নাম আলোচনায় আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার দায় জেনারেল জাহাঙ্গীরের ওপর চাপিয়ে তাকে সরিয়ে রজার খলিলকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা করার একটি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, যার মাধ্যমে সরকার নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

সায়েরের মতে, এই উদ্যোগ আপাতদৃষ্টিতে ইমেজ রিকভারির কৌশল হলেও এর ভেতরে একাধিক গুরুতর ঝুঁকি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়হীনতার আশঙ্কা ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একটি বড় অংশ রজার খলিলকে পছন্দ করে না। ফলে তিনি দায়িত্ব পেলে নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এত বড় ঝুঁকি নিয়েই কি নির্বাচন কমিশন এগোতে প্রস্তুত?  বিএনপি ও গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য ‘দ্বিতীয় ঝুঁকি’ জুলকারনাইন সায়েরের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, রজার খলিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হলে কার্যত মুস্তাইন জহীর উপ-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তিনি দাবি করেন, রজার খলিল ও মুস্তাইন জহীর দীর্ঘদিন ধরেই একটি সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করছেন, যাদের কারিগরি পরামর্শক হিসেবে রয়েছেন নুরুল ইসলাম ভূইয়া ছোটন।

এছাড়া এই টিমের সঙ্গে দার্শনিক বা কৌশলগত পরামর্শকের ভূমিকায় গৌতম দাস ও গফুর (ফমা) যুক্ত রয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। এমনকি একজন প্রভাবশালী সম্পাদককেও এই বলয়ের অংশ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

  • নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা

সায়েরের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার কেন্দ্র এই গোষ্ঠীর হাতে গেলে নির্বাচন পেছানোর দীর্ঘদিনের অপচেষ্টায় জড়িতদের হাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে। যদিও তিনি মনে করেন, তারা বুঝতে পারছে যে নির্বাচন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয় এবং এনসিপির একাংশও তাদের পরিকল্পনায় আর সমর্থন দেবে না।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন পেছানোর পরিবর্তে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

  • তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গ

পোস্টের শেষাংশে জুলকারনাইন সায়ের একটি সংবেদনশীল প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তাঁর মতে, এই গোষ্ঠী এমন এক সময়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠন করতে চাইছে, যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে দেশব্যাপী উদ্বেগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে—তা শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

  • সরকারি প্রতিক্রিয়া নেই

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রজার খলিলের সম্ভাব্য নিয়োগ বা জুলকারনাইন সায়েরের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।