সেন্টমার্টিনের উপকূলে দুই ট্রলারসহ ১২ জেলে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ: বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার সময় দুইটি ফিশিং ট্রলারসহ মোট ১২ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদিয়া পূর্ব সমুদ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ধরে নিয়ে যাওয়া ট্রলার দুটি সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. ইলিয়াস ও নুর মোহাম্মদের মালিকানাধীন। নুর মোহাম্মদ জানান, বুধবার কবির মাঝির নেতৃত্বে ছয় জেলেকে নিয়ে তার ট্রলারটি ছেঁড়াদিয়া এলাকায় মাছ শিকারে যায়। মাঝপথে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে জেলেরা সাগরে আটকা পড়ে। বৃহস্পতিবার ভোরে আরাকান আর্মির সদস্যরা ট্রলারটির কাছে গিয়ে ছয় জেলেকে ধরে নিয়ে যায়।

একই সময়ে আরেকটি টেকনাফ–সেন্টমার্টিন ট্রলার থেকেও ছয় জেলেকে তুলে নিয়ে যায় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সমবায় সমিতি।

সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের ঘাটের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর আগে দেড় শতাধিক জেলেকে তারা সাগর থেকে ধরে নিয়ে গেছে, যাদের বড় একটি অংশ এখনো নিখোঁজ। ফলে জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে।”

বিজিবির তথ্যমতে, গত দশ মাসে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অন্তত ৩৫০ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। বিজিবির মধ্যস্থতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জেলে দেশে ফিরতে সক্ষম হলেও এখনো প্রায় ১৫০ জেলে তাদের হেফাজতে রয়েছে।

ক্রমাগত জেলে অপহরণের ঘটনায় সেন্টমার্টিন–টেকনাফ উপকূলজুড়ে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেক জেলে বর্তমানে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয়রা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।