সিডনিতে ABJA-এর উদ্যোগে গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা সভা

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (ABJA)-এর উদ্যোগে সিডনিতে ‘গণতন্ত্রায়ণে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিডনির ল‍্যাকেম্বাস্থ ধানসিঁড়ি ফাংশন সেন্টারে এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বরণ্যে সাংবাদিক ও লেখক জনাব সোহরাব হাসান।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ শ্রীমৎভাগবত গীতা থেকে পাঠ এর মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব‍্যক্তিত্ব আকিদুল ইসলাম-এর যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা ড. রতন কুন্ডু, ড. ওয়ালিউল ইসলাম, ড. হুমায়ুর চৌধুরি রানা, রহমত উল্লাহ, জাকির আলম লেলিন, আরিফুর রহমান খাদেম, মোবারক হোসেন, মোহাম্মাদ আলী সিকদার, আতাউর রহমান, আসিফ ইকবাল, সুধীর দত্ত, এস এম দিদার হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, হাজী মোঃ দেলওয়ার হোসেন, কামরুল আকাশ, এহতেশামুল মুজিব মৃদুল, জাহাঙ্গীর আলম, অর্ক হাসান, দিলারা জাহান, মোঃ রেজাউল করিম, সুহৃদ সোহান হক, শরিফুল ইসলাম স্বপন, কে এম ধ্রুবসহ আরও অনেকে।

বিশেষ অতিথি জনাব সোহরাব হাসান এইরকম একটি মহতী উদ্যোগের জন্য অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি দীর্ঘ সাংবাদিকতা তাঁর বিশ্লেষনধর্মী মতামত বর্ণনা করেন। তিনি দুঃখ করে বলেন কিছুদিন পূর্বে দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকা; প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিস আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্দোষ সিনিয়র সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁরা কারান্তরীন আছেন। তিনি বিশেষভাবে জনাব শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু, শ‍্যামল দত্ত সহ নিপীড়নের শিকার অন‍্যান‍্য সংবাদিকদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন এরকম কর্মকান্ড স্বাধীন সাংবাদিকতা ও দেশের গনতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বিরাট অন্তরায়।

অন‍্যান‍্য বক্তারা বলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা নির্যাতন, হয়রানি বা হুমকির শিকার হন অন্তত ২৩ জন। প্রাণনাশের হুমকি পান ২০ সাংবাদিক। প্রকাশিত সংবাদ বা মতামতকে কেন্দ্র করে মামলার সম্মুখীন হন কমপক্ষে ১২৩ জন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সরাসরি হামলার শিকার হন ১১৮ সাংবাদিক। এ সময়কালে দুর্বৃত্তদের দ্বারা হত্যার শিকার হন পাঁচ জন এবং দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রহস্যজনকভাবে চার জন সাংবাদিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

এছাড়া মব করে আল্টিমেটাম দিয়ে শত শত সাংবাদিকদের চাকুরিচ‍্যুতি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা সাংবাদিকদের হয়রানি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনের জন্য সরাসরি হুমকি। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা এবং ভিন্নমতের প্রতি রাষ্ট্রের সহনশীলতা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইনে যেহেতু কোন ফল হচ্ছেনা সেহেতু স্পেশাল এক্ট করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বক্তারা বাংলাদেশের এই ক্রান্তিকালে গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব, স্বাধীনতা ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী মতামত তুলে ধরেন।

সভা শেষে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বরেণ্য সাংবাদিক ও লেখক সোহরাব হাসানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সভাশেষে অভ‍্যগত অতিথিদের নৈশভোজে আপ‍্যায়ন করা হয়।