সাংবাদিকতার আড়ালে মতাদর্শিক রাজনীতি করছে প্রথম আলো : মির্জা গালিব

প্রিপ্রথম আলোর সাংবাদিকতা ও বাংলাদেশে তথাকথিত সেকুলার রাজনীতির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতা মির্জা গালিব। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চেয়ে বেশি মতাদর্শিক রাজনীতি করছে এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বয়ানকে সচেতনভাবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পোস্টে মির্জা গালিব বলেন, বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বা ‘ইসলামী মৌলবাদে আক্রান্ত দেশ’ হিসেবে উপস্থাপন করে ইসলামোফোবিক সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠার যে রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে, প্রথম আলো কার্যত সেই রাজনীতির অংশীদার। তার ভাষায়, প্রথম আলো যতটা না সাংবাদিকতা করে, তার চেয়ে অনেক বেশি মতাদর্শিক রাজনীতি করে।

তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত The Dissent-এর একটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জামায়াত বা হেফাজত সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ক্ষেত্রে প্রথম আলো সচেতনভাবে ‘জামায়াতের সহিংসতা’, ‘জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব’, ‘বর্বরতা’, ‘হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনায় তারা অধিকাংশ সময় ভাববাচ্য প্রয়োগ করে, যেমন—‘হামলা হয়েছে’, ‘বাসে আগুন’, ‘ঘুমন্ত ব্যক্তির মৃত্যু’ কিংবা সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে ‘দুর্বৃত্তদের হামলা’ বলে উল্লেখ করে।

মির্জা গালিবের অভিযোগ, এই ভাষাগত রাজনীতির মাধ্যমে প্রথম আলো আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির জন্য এক ধরনের বৈধতার কাঠামো তৈরি করছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও সেকুলারিজমের রাজনীতি করার কারণে আওয়ামী লীগই যেন তাদের শেষ ভরসা।

পোস্টে তিনি বাংলাদেশের সেকুলারদের রাজনীতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তার দাবি, নিজেদের লিবারেল দাবি করলেও বাস্তবে তারা ফার রাইট রাজনীতি করে এবং সিলেক্টিভ মোরালিটি অনুসরণ করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রথম আলোর অফিসে হামলা হলে সেটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরা হয়; কিন্তু নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম বা আমার দেশ পত্রিকার অফিসে হামলা হলে কিংবা সম্পাদকদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় সেই একই নৈতিক অবস্থান দেখা যায় না।

তবে একই সঙ্গে প্রথম আলোর অফিস ভাঙচুর বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার ঘটনাকেও তিনি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। মির্জা গালিব বলেন, প্রথম আলোর রাজনীতির সঙ্গে তীব্র দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তাদের অফিস ভাঙচুর করা বা সাংবাদিকদের জীবন বিপন্ন করা কোনো ভালো রাজনীতি হতে পারে না। তিনি এটিকে ‘us versus them’ রাজনীতিরই আরেকটি রূপ হিসেবে আখ্যা দেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ হতে হবে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি—যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সবার জন্য ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে। প্রথম আলোসহ সব গণমাধ্যমের সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টের শেষ অংশে মির্জা গালিব বলেন, বাংলাদেশে সেকুলার ও ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মতাদর্শিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকলেও দেশটি সবার। এই পার্থক্য নিয়েই কীভাবে একটি কমন গ্রাউন্ডে আসা যায়, সে বিষয়ে আন্তরিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান তিনি। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া, সহিংসতা পরিহার এবং পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন জামায়াত নেতা।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এক পক্ষের অফিস ভাঙলে আরেক পক্ষ চুপ থাকবে—এই সিলেক্টিভ মোরালিটি থেকে বের না হলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শত্রুতা চলতেই থাকবে।