লালমোহনে অসহায় বিধবারের জমি দখলের চেষ্টা, গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা: ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের উত্তর-পশ্চিম চরমোল্লাজী গ্রামের সীমানা সংলগ্ন চতলা মৌজায় এক অসহায় বিধবার ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টা ও পাঁচটি রেন্টি (করাই) গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হয়, মৃত আলী হোসেনের ছেলে মো. সফিউল্ল্যাহ মাঝি (৬০), তার ছেলে মো. জসীম (৪৫), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩০), স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৫) ও মেয়ে (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, ভয়ভীতি ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে আসছে।

ভুক্তভোগী জুলেখা বেগম জানান, তার স্বামী মো. বাচ্চু মিয়া ২০০৮ সালে প্রতিবেশী মো. হারেছ আহমদের কাছ থেকে জেএল-৪১ চতলা মৌজার ৫৮২ নম্বর খতিয়ানের ৩০৫ ও ৩১৩ দাগভুক্ত সাড়ে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করেন। দলিল নম্বর ২৯৪৮, তারিখ ২৪ জুন ২০০৮। ২০১০ সালে কাজের সুবাদে চট্টগ্রামে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যান। এরপর দুই শিশু সন্তান নিয়ে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে তিনি ও তার দুই সন্তান জমির মালিক হন। জমিটি তাদের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে। নামজারি খতিয়ান নম্বর ২০২৫-১০০০০১ এবং খাজনা পরিশোধের ক্রমিক নম্বর ০৯৫৪২৫০২৬৪১৩।

জুলেখা বেগমের অভিযোগ, সম্প্রতি সফিউল্ল্যাহ মাঝি গং অবৈধ ও ভুয়া পর্চা তৈরি করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে। পাশাপাশি জমিতে লাগানো আনুমানিক এক লক্ষ টাকা মূল্যের পাঁচটি করাই গাছ কেটে নিয়ে যায়।

তার ভাই মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, আমার ভগ্নিপতির মৃত্যুর পর থেকে আমার বোন ও তার এতিম সন্তানরা চতলা মৌজার সাড়ে ছয় শতাংশ এবং চরমোল্লাজী মৌজার সাত শতাংশ জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সফিউল্লাহ মাঝি গং দলিল ছাড়া ভুয়া কাগজ দেখিয়ে দখলের চেষ্টা করছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার ফয়সালা হলেও তারা কিছুই মানছে না।

একই খতিয়ানের আরেক মালিক মো. ইব্রাহিম মিয়া জানান, তার পিতা কালা মিয়ার মৃত্যুর পর তিনি ও তার মা ওই খতিয়ানের ২০ শতাংশ জমির মালিক হলেও সফিউল্লাহ মাঝি জোরপূর্বক সেই জমিও দখলে রেখেছেন। তিনি এ বিষয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রামগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাফর ইকবাল বলেন, আমি নিজে এবং ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ একাধিক জনপ্রতিনিধি দুই পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করেছি। সফিউল্লাহ মাঝি কোনো বৈধ দলিল দেখাতে পারেনি। সে স্থানীয় কোনো ফয়সালাই মানছে না।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সফিউল্ল্যাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।