যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে বহিষ্কারের দাবি

11

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে বাংলাদেশ থেকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, পিটার হাস নগ্নভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে চলেছেন তো চলেছেন। এদিকে ২৮ অক্টোবর বিএনপি নতুন করে সন্ত্রাসের পথে যায় তাহলে দেশের মানুষ তাদেরকে রুখে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

শুক্রবার স্বাধীনতা সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘‘দেশ আমার সিদ্ধান্ত আমার’’শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘বিএনপির একজন নেতা বলেই দিয়েছিন পিটার হাস হচ্ছেন অবতার। যারা আমাদরে দেশে ধর্মরাজনীতি করে সেই জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যরা প্রতিবাদ করেনি। বরং মেনে নিয়েছে। এই কথা থেকে এটি পরিস্কার যে, বিএনপি জামায়াতীরা দেশের মানুষের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। সেজন্য তারা চেষ্টা করছে বিদেশি প্রভূদের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে নিতে।’

তিনি বলেন, ‘আমরাও পাকিস্তানি উপ-রাষ্ট্রদূতকে এদেশ থেকে বহিস্কার করেছি। কারণ সে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী কথা বলেছিল। যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বলছে অথচ ফিলিস্তিনে যে ধরণের মানবাধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। তাতে কী প্রমাণিত হচ্ছে? হাজার হাজার শিশুকে বোমা মেরে হত্যা করা হচ্ছে। এসব শিশুদের মধ্যে মুসলমান রয়েছে, খ্রিস্টান রয়েছে, ইহুদিও রয়েছে। সেখানেও আমরা দেখছি মার্কিন হস্তক্ষেপ।

মানিক বলেন, ‘পিটার হাসকে বাংলাদেশ থেকে বহিস্কার করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। উনি নগ্নভাবে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে চলেছেন। কোনো বাধাই তিনি মানতে রাজি নন। যেন তিনি এই দেশের মালিক, এই দেশের হর্তাকর্তা, বিধাতা।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘যারা সরকারের পদত্যাগ চাচ্ছেন তাদেরকে বলি, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পথ।’ তিনি বলেন, ’২৮ অক্টোবর বিএনপি যদি নতুন করে সন্ত্রাসের পথে যায় তাহলে এদেশের মানুষ তাদেরকে রুখে দেবে। আর বিদেশিদের কথা বলা হচ্ছে। বিদেশিরা অনেকে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল। আবার অনেকে সমর্থথন করেছিল। সকল বিরোধীতার মধ্য দিয়ে জাতির পিতার নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। আর আজকে বিরোধী করেছিল আমাদের পদ্মা সেতুর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বিরোধীতার মুখে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করে দেখিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র থাকবে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সংখ্যায় বেশি নয়। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি, যারা পক্ষে তারা সবাই যদি এক হয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে একাত্তরের মত এরা পরাজিত হবে। আগামী নির্বাচনেও তারা পরাজিত হবে।’

ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও খায়রুল আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাসেম হুমায়ুন, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আবদুল মমিন সিরাজী প্রমূখ।