মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা প্রাণে বাঁচতে পালাচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্তে

13

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ প্রতিনিধি: গত বেশ ক’দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমূল সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষের গোলাবারুদ, মর্টার সেল বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন বাসা বাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা, মানুষের শরীরসহ নানাস্থানে এসে পড়েছে।

রোববার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে প্রবীর চন্দ্র ধর (৫৯) নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এর আগে ভোরে তুমব্রু কোনার পাড়ায় একটি বসতঘরে মর্টারশেল এসে পড়ে। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে গেছে। আজ সকালে মর্টারসেল এসে পড়ে এক বাংলাদেশী ও এক রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৯৫ সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে তুমব্রু’র বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। বিদ্রোহীদের চাপের মুখে তারা টিকতে না পেরে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেন বলে সীমান্ত এলাকাবাসি সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিজিবি তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে আহত ১৫ জন সদস্যকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,রোববার সকালে ১৪ জন বিজিপি সদস্য পালিয়ে এসে এপারে আশ্রয় নেন। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যে পরে আরও বিজিপি সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় চান। এ ছাড়াও, রোববার দুপুর ও বিকেলে  নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও তমব্রু সীমান্ত দিয়ে আহত অন্তত ১০ জন এসেছেন। তাদেরকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, বেশ ক’দিন ধরে মিয়ানমারের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক। এসব গোলাবারুদ আর বিস্ফোরকের বিকট শব্দে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশের একজন আহত ও দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহত হওয়া দুইজনের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক। এর আগে ভোরে মর্টারশেল এসে একটি বসতঘরে পড়ে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে দেশটির জান্তা বাহিনীর ৯৫ সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন তুমব্রু বিজিবি ক্যাম্পে। তাঁরা প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আশ্রয় নেন।
এই অবস্থায় স্থানীয়দের সরানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে সীমান্তের ১০০ গজ দূরত্বে থাকা মিশকাতুন নবী দাখিল মাদরাসা সহ ঘুমধুম সীমান্তে ছয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।