ভোলায় ক্লাস চলাকালে ৪০ শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার পেছনে জ্বীনের আছর?

34

ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে এক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তাকে সেবা দিতে গিয়ে আরো প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং একাধিক শিক্ষার্থী একে গোল হয়ে বাতাস আসা ‘জ্বীনের আছর’ বললেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুরা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে উপজেলার পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অন্তত ২৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিহাদ জানায়, গণিত স্যার আমাদের ক্লাস নিচ্ছেন। হঠাৎ করে আমার মাথা ঘুরিয়ে পরে যায়। এমনভাবে মাথা ব্যথা উঠছে মনে হয়েছে চুলগুলো উঠিয়ে ফেলি। আমার এমন অবস্থা দেখে স্যাররা আমাকে লাইব্রেরীতে নিয়ে যায়। পরে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে।

আবু কালাম নামের এক অভিভাবক বলেন, স্কুল থেকে এক স্যার বাড়ীতে ফোন দিয়ে বলেছে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি কেউ মাথা থাপ্পরাচ্ছে আর কেউ অজ্ঞান অবস্থায় আছে। যে ধরে সেই অসুস্থ্য হয়ে যায়।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া হয়। মনে হচ্ছিল সব যেন উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটাকে গ্রামে আমরা জ্বীনের বাতাস বলে থাকি। এরপরই সেখানে ওই বাতাসে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে যাই। পরের আর কিছু আমাদের মনে নাই।

ক্লাস শিক্ষক আবু ছাঈদ বলেন, সকাল ১১টার সময় আমি ক্লাস নিচ্ছি। এমন সময় জিহাদ অসুস্থ হলে তাকে অন্যদের ধরতে বলি। এর কিছুক্ষণ পরেই দেখি যেই ধরে সেই একটা চিৎকার দিয়ে ঘুরে পরে যায়। আমার ও মাথা ঘুরেছে এবং চোঁখ দিয়ে হঠাৎ পানি পরা শুরু করেছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুরা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যাকে সাইন্সের ভাষায় মা সাইকোলজিক্যাল ইনলেস অর্থাৎ একজনকে দেখে আরেকজনের ভয় হয়। বর্তমানে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারো মাথাব্যথা, কারো শরীর কাঁপা, কারো দুর্বলতা, কারো দাঁতে দাঁত লেগে যাওয়ার মতো অসুস্থতা দেখা গেছে। এ ঘটনায় তিনদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় তিনদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে ভীড় করছেন। কেউ কেউ প্রিয় সন্তানের এমন অসুস্থতা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শফিকুজ্জামান জানান, ধারণা করা হচ্ছে, শিশুরা মা সাইকোলজিক্যাল ইনলেস (একজনকে দেখে আরেকজনের ভয় হয়) রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমানে তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আশঙ্কামুক্ত আছেন।