ভোটের আগে দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেপ্তার কী বার্তা দেয়

220

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আবগারি নীতিমালায় দুর্নীতির অভিযোগে নজিরবিহীনভাবে গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে বিজেপির বিরোধীপক্ষকে ভারতের জনগণের কাছে দুর্নীতিবাজ বলে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টাও থাকতে পারে জানানো হয়।

প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী বলেন, ভারতের বর্তমান নরেন্দ্র মোদী সরকার বিরোধী দলগুলো যে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক মোর্চা এটা ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে চাইছে। বিজেপি মনে করে একমাত্র তারাই স্বচ্ছ প্রশাসক দিতে পারে, অন্যরা দুর্নীতিগ্রস্ত। এই ধারাবাহিকতায় কেজরিওয়ালের সারির আরও অনেক নেতাও গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ইডি-সিবিআই’র তল্লাশি চলছে। পশ্চিমবঙ্গেও চলছে। এখন সাধারণ মানুষ কী রিঅ্যাকশন দেন সেটাই দেখার বিষয়। অনেকেই মনে করেন, ভোটের আগে এটা না হলেও হতে পারত, বা ভোটের পরেও হতে পারত।

গৌতম লাহিড়ী জানান, এবারের নির্বাচনে বিজেপি মূলত তিনটি অস্ত্র নিয়ে ভোটের বৈতরণী পার হতে চাইছে। এরমধ্যে একটি হলো- রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে দেশের বেশিরভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠীর মন জয় করার অভিলাষ রয়েছে। একইসঙ্গে সিএএ, প্রতিবেশি দেশসমূহ থেকে হিন্দুরা নিপীড়িত হয়ে আসলে তাদেরকে ছাড়া অন্যদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়টিও হিন্দুত্ববাদকে চিন্তা করেই। আর তৃতীয় অস্ত্রটি হচ্ছে বিরোধীপক্ষকে দুর্নীতির মামলা দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া। এটা বিজেপির এবারের কৌশল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো শুরু থেকেই নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের পর বিরোধীপক্ষের ঐক্য আরও জোরালো হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে অনেক দিন থেকে ষড়যন্ত্র করছে। বারবার ডেকে পাঠাচ্ছে নির্বাচনের আগে। ওকে গ্রেপ্তার করে বিরোধী দলগুলোর জোটকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।