বিদ্যালয়ে হঠাৎ অসুস্থ্য ২০ ছাত্রী

13

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে প্রায় ২০জন ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ১১জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন- অন্বেষা, কবিতা, হাসিবা, শ্রীময়ন্তী, মারিয়া, সেতু, ফাইয়না, সামিয়া, মারিয়া, জান্নাত, মাহিয়ানি। তারা সবাই সপ্ত শ্রেণির ছাত্রী। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রæয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৭ম শ্রেণির পাঠদান চালকালে শ্রেণিকে কক্ষে আফিফা আক্তার নুহা নামে এক ছাত্রীর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সহপাঠীকে এমন অবস্থায় দেখে অপর ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অল্প সময় ব্যবধানে পুরো বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে শ্বাসকষ্ট, বমিবমি ভাব ও মাথা ঘুরিয়ে আরও প্রায় ২০জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে ১০জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ্য একাধিক ছাত্রী জানান, ৭ম শ্রেণির নূহা প্রথমে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এটা দেখে আমাদের মাথা ঘুরে বমিবমি ভাব আসে। হাতপা কাপতে থাকে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিফা আক্তার নূহার বাবা মো. মঞ্জু বলেন, আমার মেয়ের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা আছে। প্রায়ই এটা দেখা দেয়। আজও বিদ্যালয়ে ওই সমস্যা দেখা দেয়। খবর পেয়ে আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে অক্সিজেন ও ওষুধ দেই। এতে সে সুস্থ্য হয়ে যায়। তার শ্বাসকষ্ট দেখে অন্য ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আজিজ জানান, এক শিক্ষার্থীর শ্বাসকষ্ট দেখে অন্য শিক্ষার্থীরা হঠাৎ আতঙ্কে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্ক জড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ্য ১০জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় একাধিক অভিভাবক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। মো. মিরাজ পঞ্চায়েত নামে এক অভিভাবক বলেন, এতগুলো ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পরেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেননি। ঘটনা ঘটেছে দুপুর দেড়টার দিকে আর চকিৎিসক খবর দেওয়া হয় বিকেলে ৩টার দিকেও। সেই চিকিৎসকও খবর দিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। খবর পেয়ে বিদ্যালয় গিয়ে স্কুল ছুটি ঘোষণা করি। অসুস্থ্য শিক্ষিার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, একজনের অসুস্থতা দেখে অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যেও ভীতি কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ‘গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ’ বলা হয়। তবে ভর্তি হওয়া শিক্ষির্থীরা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানান তিনি।