

সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আইনত নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৭৭নং দক্ষিণ চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সভার বৈধতা ও অনুমতির কাগজ জানতে চাইলে ছাত্রদলের তিন নেতার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে (৮জানুয়ারী) বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে জামায়াতের সভা চলার খবর পেয়ে সেখানে যান স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সাইদুল, জহিরুল ইসলাম সোহাগ ও আরমান ইসলাম সজিব। এসময়ে জহির জানতে চান, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের সভা করার কোনো বিধান আছে কি না এবং থাকলে বিদ্যালয় প্রধানের লিখিত অনুমতির কোনো নথি রয়েছে কি না।
এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে কিল-ঘুষিতে আহত হন ছাত্রদলের তিনজন ও জামায়াতে ইসলামীর একজন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়া বলেন, তারা আমার কাছ থেকে রাজনৈতিক সভা করার জন্য কোনো অনুমতি নেয়নি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া কেউ কীভাবে বিদ্যালয়ের কক্ষে সভা করে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি অফিসিয়াল কাজে বাইরে ছিলেন। সহকারী শিক্ষক দুর্জয় ফোনে স্থানীয় ব্যক্তিদের আলোচনার বিষয়ে জানালে তিনি দপ্তরী হেমায়েতকে সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ে থাকতে বলেন।
অন্যদিকে দপ্তরী হেমায়েত বলেন, পিয়া ম্যাম আমাকে শুধু নিচতলার একটি কক্ষ খুলে দিতে বলেছিলেন। এজন্য আমি কক্ষ খুলে দিয়েছি।
তবে জামায়াত নেতা মুজাহিদ ইসলাম ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই তারা প্রোগ্রাম করেছে।
হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলাম সোহাগ বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক দলের সভা নিষিদ্ধ। আমরা শুধু সেই আইনগত বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম। এর জবাবে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। অপর আহত নেতা আরমান ইসলাম সজিব অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি-ভুক্ত লোকজন নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা রুহুল আমীন বলেন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে রাজনৈতিক সভা এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা গুরুতর বিষয়। জামায়াত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন নিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রের ভিতরে গোপন বৈঠক করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত রয়েছি। এ বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান। তদন্তে শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


