নৌকার সমর্থকের উপর হামলা, গুলি উদ্ধার

21

নিজস্ব প্রতিবেদক (বাউফল): পটুয়াখালীর বাউফলে নৌকার উঠান বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন জেলা যুবলীগের সাবেক নেতা মো. রেজাউল করিম খান (৫০)। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন পুলিশ।

গত শক্রবার ২২ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে উপজেলার বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ট্রেমা সেন্টার অ্যান্ড বিশেষায়িত অর্থোপেডিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

গুলি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বগা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, এক রাউন্ড গুলি ও এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করছেন পুলিশ।

জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে বগা ইউনিয়নের জাদুরকাঠি হিন্দু পাড়ায় নৌকার সমর্থণে উঠান বৈঠক শেষে ৬/৭ জন লোক সাথে নিয়ে মটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রেজাউল করিম। রাজনগর এলাকায় তার বাড়ির উত্তর পাশে পৌঁছালে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদ হাসান, ভাগিনা সাহবুদ্দিন আকন, ইব্রাহিম ও আশ্রাফসহ ২৫/৩৫ জন রাস্তার ওপর মারবেল পাথর ছিটিয়ে মটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে রেজাউল করিমের ওপর গুলি, কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

ওই সময় তার মাটরসাইকেল চালক অলি (২৫), ছাত্রলীগ কর্মী ফেরদৌস মুন্সীসহ (২২) ৫/৬জনকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা রেজাউল করিম, অলি ও ফেরদৌস মুন্সীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কতর্ব্যরত চিকিৎসক ভাস্কর পাল জানান, রেজাউল করিমের দুই পা, বাম হাত ও মাথা কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গুলির চিহ্ন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অলি নামে একজনেরও মাথায় জখম রয়েছে। ফেরদৌসের জখম না থাকলেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এর আগে ২০২২ সালের ১৭ জুন রেজাউল করিম খানের ওপর হামলা করা হয়। ওই ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার, তার ছেলে মাহমুদ হাসানসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে তার ছেলেসহ ১১ জন অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এস. এম ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার নৌকার মনোনয়ন চেয়ে ছিলেন। শেখ হাসিনা এবারও আ.স.ম ফিরোজকে মনোনয়ন দেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে মাহমুদ হাসান নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেন। জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বগা ইউনিয়ন যবুলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম নৌকার পক্ষে কাজ করায় তার ওপর হামলা করেন উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদ হাসান ও তার পালিত সন্ত্রাসীরা।

অভিযুক্ত বগা ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আর উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার বলেন, ঘটনার দিন আমি এলাকায় ছিলাম না। তাই এবিষয়ে কিছু জানি না।

সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে অস্ত্র উদ্ধারসহ তথ্য প্রমাণ সংগ্রহে পুলিশ কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।