নিজের বাবাকে নিয়ে মিথ‍্যাচারের জবাব দিলেন মির্জা ফখরুল

নিজের প্রয়াত পিতা মির্জা রুহুল আমিনকে স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁও জেলার আধুনিকতার শুরু তাঁর বাবার উদ্যোগে। জেলার প্রতিটি সৎ মানুষ তার অবদান জানে। বাবার মৃত্যুতে ১৯৯৭ সালে সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়েছিল। বাবার স্মৃতির জন্য প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদরা।

সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ফখরুল লিখেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের স্বার্থে কিছু কথা বলা জরুরি। তিনি বলেন, সমাজের কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা ছড়াচ্ছে, তাই বিষয়টি প্রকাশ করা প্রয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে তাঁর বাবা পরিবারসহ নানাবাড়ি থেকে চলে যান ভারতের ইসলামপুর রিফিউজি ক্যাম্পে। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ফিরে আসেন এবং দেখেন সব লুট হয়ে গেছে। তাঁর মা গয়না বিক্রি করে সংসার চালান। তিনি অর্থনীতি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে প্রথম বেতন তার মায়ের হাতে দেন। তিনি বলেন, ১৯৭১-এর পর বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন জীবন গড়েছেন।

ফখরুল আরও জানিয়েছেন, গত ৫৪ বছরে বাবার নামে কোনো মামলা হয়নি। তিনি বলেন, মিথ্যাচার শুরু হয় আগের আওয়ামী সরকারের সময় এবং বর্তমানে একটি গোষ্ঠী, যারা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের অংশীদার মনে করে, সেই মিথ্যাচারে জড়িত। তিনি সতর্ক করেন, মিথ্যা ও গুজব সমাজকে ধ্বংস করে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম সত্যের পথে থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সততা ও নীতিমালা দিয়ে। শঠতা ও মিথ্যা দিয়ে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়।

শেষে তিনি কোরআনের সুরা হুজরাতের একটি আয়াত উল্লেখ করে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন, অনুমান থেকে দূরে থাকার এবং অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম ও নতুন প্রজন্মের সাহস দিয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ, সৎ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য।