তজুমদ্দিনে জমি দখলের চেষ্টা বংশজ তথ্য জালিয়াতি: ভুয়া ওয়ারিশ সনদে উত্তেজনা, সংঘর্ষে আহত ৩

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় জমি দখলের উদ্দেশ্যে বংশীয় পরিচয় জালিয়াতি এবং ভুয়া ওয়ারিশ সনদ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে নিজামুদ্দিন, শামীম ও তানভীর গংদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

অভিযোগকারী আবু তাহের জানান, তিনি ১৯৮৭ সালে তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদেক পিতা মৃত নুরুল হক-এর কাছ থেকে মনপুরা উপজেলার চর গোয়ালিয়া মৌজার ১০৭৪ খতিয়ানের এক একর ৫০ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর মনপুরা উপজেলার চর যতিন গ্রামের বাসিন্দা সাদেক পিতা মৃত ছমেদ-এর সন্তান তানভীর, নিজাম ও শামীম গংরা ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে তজুমদ্দিনের চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভুয়া তথ্য দিয়ে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

ইকবাল হোসেন শাকিল অভিযোগ করে বলেন, চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল ইসলাম ও চৌকিদার বাবুল দাস—টাকার বিনিময়ে মৃত সাদেকের পিতার নাম ‘মৃত নুরুল হক’ লিখে ভুয়া ওয়ারিশ ও মৃত্যু সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে বিষয়টি টের পেয়ে তারা সঠিক তথ্যসহ হাজির হলে মেম্বার ও চৌকিদার ভুল সংশোধন করে জন্ম নিবন্ধন প্রদান করেন। পরে মৃত্যু সনদের ফরমে স্বাক্ষরের সময় মেম্বার তালবাহানা করতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

এদিকে সালিশের নামে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকা হলে গত ২৮ অক্টোবর দুপুরে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আকস্মিকভাবে তানভীর গংরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগকারীরা জানায়। হামলায় ডান হাতের আঙুল ভাঙা, নাকে আঘাত, ঠোঁট ফাটা সহ গুরুতর জখম হন তিনজন। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগও ওঠে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ তজুমদ্দিন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এম.পি/২০২৫ (তজুঃ) M২-১১০/২৫-6 মামলাটি দায়ের করেছে।

অভিযুক্ত ছাদেক পিতা ছমেদের ভাই বাদশা মিয়া জানান, “আমাদের বাবার নাম ছমেদ। মৃত নুরুল হক নামে আমরা কাউকে চিনি না। আমার ভাই সাদেকের মনপুরায় কোনো জমিও নেই।”

নিজামুদ্দিন গংদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় মন্তব্য করতে চান না।

তজুমদ্দিন থানার ওসি মোহাব্বত খান বলেন, “উভয় পক্ষ অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”