ডিআইইউ’কে ইউজিসির কারণ দর্শানোর নোটিশ

25

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)’তে সাংবাদিকতা করার দায়ে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার আদেশ কেন প্রত্যাহার করা হবে না, সেই বিষয়ে জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। ইউজিসি’র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, গত ১৩ মার্চ ২০২৪ তারিখে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০ জন (যারা সাংবাদিকতা করেন) শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি পত্র মারফত বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য কমিশনে অনুরোধ জানানো হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার আদেশ কেন প্রত্যাহার করা হবে না তা আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসে মধ্যে কমিশন বরাবর প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক সমিতি অনুমোদিত নয় উল্লেখ করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে ডিআইইউ কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পর থেকেই সারাদেশের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক সংগঠন এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং এডুকেশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনসহ অন্যান্য সংগঠন ডিআইইউ’র এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় উল্লেখ করে এমন অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে দুর্নীতি ও ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নসহ অপকর্ম করতে সাংবাদিকতাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেছেন।

এমন প্রেক্ষাপটের মধ্যেই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করায় সাংবাদিক দুই শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি করবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন৷ ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীরা দেশের ডাক’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই শিক্ষার্থীরা বলেন, সাংবাদিকতা করার দায়ে আমাদের ১০ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এবার ইউনিভার্সিটি প্রশাসন নতুন করে আমাকে ও ফয়সাল হোসেনকে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি করবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে৷ আমাদের তারা মানসিকভাবে হেনস্তা করেই চলেছেন৷ দফায় দফার বাড়ানো হচ্ছে সাময়িক বহিষ্কারাদেশের মেয়াদও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অপকর্ম আড়াল করতেই সাংবাদিকতা বন্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

‘‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি বন্ধ এবং ১০ ছাত্রকে বহিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাংবিধানিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩৮) প্রয়োগ করতে বাধা সৃষ্টি করেছে। এটি একইসাথে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), অনুচ্ছেদ ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার), অনুচ্ছেদ ৩২ (জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় অধিকার-রক্ষণ), অনুচ্ছেদ ৩৬(চলাফেরার স্বাধীনতা), অনুচ্ছেদ ৩৭ (সমাবেশের স্বাধীনতা) ও অনুচ্ছেদ ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতা) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা এ ঘটনার সঠিক সুরাহা চাই। ইউজিসির ওপর আমাদের ভরসা আছে। তারা কী করে আমরা দেখব। নাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাব’’, বলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত বা নিয়ম আমাদের ওপর বাতলে দিচ্ছে৷ যখন যেভাবে ইচ্ছা নোটিশ দিচ্ছে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেইক আইডি খুলেও আমাদের নামে সংঘবদ্ধ মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে৷ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করা এবং পড়াশোনা করাটাই যেন একটা অপরাধ।