

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নুর কামাল ও সাদ্দাম গ্রুপের সঙ্গে সালেহ গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাত ১০টার পর থেকে শুরু হয়ে রাত ১টা পর্যন্ত টানা গুলিবিনিময় চলে। এতে পুরো ক্যাম্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ১৬ এপিবিএন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার। তিনি বলেন, “নুর কামাল ও সাদ্দাম গ্রুপ একত্রিত হয়ে সালেহ গ্রুপের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এপিবিএন সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দমনে বিশেষ একটি টিম পাহাড়ে অবস্থান করছে। ক্যাম্পে কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা মাঝি জানান, “প্রতিদিনই ক্যাম্প ও আশপাশের পাহাড়ে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিক।”
এদিকে, টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শফি, তোহা, সাদ্দাম, নুর কামাল ও সালেহসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ শরণার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সম্প্রতি এপিবিএন তোহা গ্রুপের প্রধান তুহাকে আটক করেছে এবং র্যাব অভিযান চালিয়ে ডাকাত শফি গ্রুপের প্রধান শফিকে বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে। তবে অন্য গ্রুপগুলোর প্রধানরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নতুন করে খালেদ নামে একটি গ্রুপও সক্রিয় হয়েছে। এসব গ্রুপের দৌরাত্ম্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।


