জামায়াত নেতার সমর্থনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগ নেতা

11

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক অপুর মনোনয়ন ফরমে সমর্থনকারী হয়েছেন এক জামায়াত নেতা। ওই জামায়াত নেতার নাম মোহাম্মাদ আবু সাঈদ। তিনি বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুববিভাগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শীহন শরীফের কাছে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছেন কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক অপু। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময় তার সমর্থনকারী জামায়াত নেতা আবু সাঈদ, ইউনিয়ন জামায়াতে ইমলামীর সাবেক আমির মো. মুজাম্মেল মৃধাসহ একাধিক সমর্থক-অনুসারী উপস্থিত ছিলেন।

গত ইউপি নির্বাচনেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নৌকার প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার হন। গত বছরের ১৪ আগস্ট চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন পিকুর মৃত্যুর ঘটনায় শূন্যপদে উপনির্বাচনে এবার প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত ওই আওয়ামী লীগ এনামুল হক। এ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে বিভিন্ন মহলে লবিং তদবিরও করছেন তিনি।

এনামুল হক অপু একজন আওয়ামী লীগ নেতা হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন জামায়াত নেতাদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন ফরম দাখিল করা ও জামায়াত নেতার প্রস্তাবকারী হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম খান টিটু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে এনামুল হক অপু যা করেছেন তা লজ্জাজনক। স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগ। সেই দলের নেতা হয়ে জামায়াত নেতার সমর্থনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে পারেন না। এটা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। আমি কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার এমন কাজের জন্য তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাই।

অপর দিকে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে সকল নির্বাচন বয়কট করেছে। একই সাথে সরকার পতনের আন্দোলনও করছেন দলটি। সেই দলের একজন নেতা আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থনকারী হওয়ায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যে মিশ্র প্রক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলার শীর্ষ এক জামায়াত নেতা বলেন, এটা সংগঠন পরিপন্থী কাজ।

তবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থনকারী জামায়াত নেতা আবু সাঈদ। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী আমার চাচা হয়। এজন্য তার সমর্থনকারী হয়েছি। এটা নিয়ে আমার দলের কোনো চাপ বা বাধা নেই।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক অপু বলেন, ‘নির্বাচনে তো নৌকা প্রতীক নেই। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমার জনপ্রতিনিধি হতে হলে সকল দলের মানুষের ভোট লাগবে। তাই যে কেউ আমার সমর্থনকারী হতে পারে। এটা কোনো বিষয় না।’