‘জলদস্যুরা আমাদের জাহাজে ঢুকে পড়েছে’

22

আহমেদ শরীফ রনি: জলদস্যুরা আমাদের জাহাজে ঢুকে পড়েছে, আমার জন্য দোয়া করো। আর মনে হয় কথা হবে না’ এসব কথা স্ত্রী তানিয়া আক্তারকে বলেন সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া মো. রোকন উদ্দিন নামে বাংলাদেশি একজন ইঞ্জিনিয়ার। তারপর ফোনের সংযোগ কেটে দেন আর কোন কথা বলতে পারেননি।

ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। কেএসআরএম কোম্পানির এই জাহাজে রোকন উদ্দিনসহ ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক জলদস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন।

রোকন উদ্দিন এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের তৃতীয় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। তিনি নেত্রকোনার সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বাঘরুয়া গ্রামের মো. মিরাজ আলীর ছেলে। রোকন উদ্দিনের জন্ম ১৯৯১ সালে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তৃতীয় রোকন । মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে ২০১৫ সালে জাহাজে চাকরি নেন তিনি। ২০২৩ সালের ২০ মার্চ ছুটিতে বাড়িতে এসে বিয়ে করেন তিনি। নভেম্বরে ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদেন রোকন। তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ভারত মহাসাগরে এমভি আবদুল্লাহসহ ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে জিম্মি হওয়ার খবর প্রচারের পর রোকন উদ্দিনের বাড়িতে মাতম শুরু হয়। বিকেলে স্ত্রী তানিয়া আক্তারের সাথে শুধুমাত্র একবার মোবাইলফোনে কথা বলতে পেরেছেন রোকন। এ সময় তিনি ফোনে স্ত্রীকে বলেন- ‘জলদস্যুরা জাহাজে ঢুকে পড়েছে, আমার জন্য দোয়া করো, আর মনে হয় কথা হবে না’। এসব কথা বলার পর সংযোগ কেটে যায়।

এদিকে ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা লুৎফুন্নাহার। সেইসাথে স্ত্রী তানিয়া আক্তারও স্বামীর প্রাণ শঙ্কায় জ্ঞান হারাচ্ছেন।

রোকন উদ্দিনের বড় বোন শাহমিনা আক্তার এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে রোকন তার স্ত্রী তানিয়াকে মোবাইলে কল করে জানায়—‘জলদস্যুরা জাহাজে ঢুকে পড়েছে, আমার জন্য দোয়া করো, আর মনে হয় কথা হবে না’। এসব কথা বলার পর সংযোগ কেটে যায়। সন্ধ্যার পর তানিয়া আমাদের এসব কথা জানিয়েছে। খবর শোনার পর আমাদের বাড়িতে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। রাতেও রোকনের ফোন চালু ছিল। আমরা কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। কল হচ্ছিল কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি। এরপর থেকে আর কোন খবর পাচ্ছি না। রোকনের জিম্মি হওয়ার খবরে চিন্তায়-শঙ্কায় আমাদের পরিবারের সবার অবস্থা খুব খারাপ। বাড়িতে খাওয়া দাওয়া বন্ধ। রোকন সুস্থ্যভাবে ফিরে আসুক এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।

রোকন উদ্দিনের বড় ভাই সাইদুর রহমানের স্ত্রী পপি আক্তার বলেন, রোকন জলদস্যুদের কবলে পড়েছে এ কথা শোনার পর তার মা লুৎফন্নাহার বারবার কেঁদে জ্ঞান হারাচ্ছেন। এদিকে স্ত্রী তানিয়ারও একই অবস্থা। বাড়িতে কান্নাকাটি, কারো খাওয়া দাওয়া ঘুম কিছুই নেই। আমরা খুব আতঙ্কে আছি তাকে (রোকন) নিয়ে। রোকনসহ সকল জিম্মিদের সুস্থ ও জীবিত উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।