বরিশালে শিক্ষার্থীদের উপর বাস শ্রমিকদের হামলা: অর্ধশত আহত, ঢাকা-বরিশাল সড়ক অবরোধ

এম এ আশরাফ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে হাফ ভাড়া না নেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, বাস শ্রমিক নিজেরাই পরিকল্পিত ভাবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাস শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষার্থী ও শ্রমিক মিলে অর্ধশত আহতের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ভাঙচুর-সড়কে অগ্নিসংযোগের পর রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ সময় হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।

বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাস টার্মিনালে গেলে পরিবহণ শ্রমিকদের হামলায় ২৫ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিএম কলেজের দুই শিক্ষার্থী মুলাদী থেকে বরিশালে আসার পথে শিক্ষার্থী পরিচয়ে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলে শ্রমিকরা তা নিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় উত্তেজিত হয়ে অন্তত ৫০টি বাসে ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিএম কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী আরো বলেন, হাফভাড়া আমাদের অধিকার। আজ মুলাদী থেকে বরিশাল নগরীতে আসার পথে এক শিক্ষার্থীকে হাফভাড়া দিতে চাইলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বাস শ্রমিকরা। খবর পেয়ে আমরা (শিক্ষার্থীরা) নথুল্লাবাদ স্টান্ডে জড়ো হয়ে শ্রমিকদের বিচার দাবি জানাই। এ সময় তাদের উপর বাস শ্রমিকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কোনো রকম পালটা হামলার ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে। পরিবহণ শ্রমিক নেতা আরজু মৃধা বলেন, কলেজ বন্ধের দিনও হাফ ভাড়া দেওয়া নিয়ে বরিশাল-মুলাদী রুটের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাস শ্রমিকের বিরোধ হয়। এরপর সন্ধ্যায় বিএম কলেজের কয়েকশ শিক্ষার্থী এসে নথুল্লাবাদ স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর করে। সেখানে থাকা ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিককে মারধর করে গুরুতর আহত করে তারা।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি মামুন উল ইসলাম বলেন, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিস্তারিত পরে জানানো সম্ভব হবে।