দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। গত রোববার (১৩ মে) বিকেল থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার ফলে গত দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে পরিকল্পিত দুটি বড় চালান বাতিল করতে হয়েছে। ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে কোনো ক্রুড তেলের চালান আসেনি।
ইআরএল সাধারণত দৈনিক ৪৫০০ টন তেল পরিশোধন করলেও সংকট মোকাবিলায় তা কমিয়ে ৩৫০০ টনে আনা হয়েছিল। পাইপলাইনে জমে থাকা তেল এবং স্টোরেজ ট্যাংকের তলানির ময়লাযুক্ত ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করে এতদিন কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছিল। তবে পাম্প ও যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় এবং তেলের স্তর ১ মিটারের নিচে নেমে যাওয়ায় বর্তমানে পরিশোধন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিপিসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর কাছ থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেলের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে এবং এলসি খোলা হয়েছে। এই চালানটি সরাসরি আরব সাগর হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকেও ১ লাখ টন তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
ইআরএল বন্ধ থাকলেও দেশে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ। কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছে- গত মার্চ ও এপ্রিলে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিশোধিত ডিজেল, অকটেন ও ফার্নেস তেল আমদানি করা হয়েছে; বিপিসির কাছে বর্তমানে প্রয়োজনীয় পরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।