স্ট্রোক ও ইনজুরির রোগীর সুস্থতায় ফিজিক্যাল মেডিসিন অপরিহার্য: বিএমইউ উপাচার্য

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা মো. শাহিনুল আলম বলেছেন, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, আর্থ্রাইটিস ও স্পাইনাল ইনজুরিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমানে দ্রুত বাড়ছে। এসব ক্ষেত্রে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারই যথেষ্ট নয়—রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন অপরিহার্য।

সমন্বিত পূনর্বাসনে চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতীয় ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন দিবস ২০২৫।

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ডা মো. শাহিনুল আলম বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ইতোমধ্যে দেশের প্রথম রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার স্থাপন করেছি—যা পুনর্বাসন চিকিৎসায় প্রযুক্তির এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আধুনিক রোবোটিক থেরাপির মাধ্যমে রোগীরা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সুস্থ হচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন-এর এই উদ্যোগ সমাজে সচেতনতা বাড়াবে এবং পুনর্বাসন চিকিৎসায় সরকার, প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও জোরদার করবে।

চিকিৎসক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মানুষের বেচে থাকার জন্য আপনারা (ডাক্তার) যে হার্ডওয়ার্ক করেন, রিসার্চ করেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। ক্রিকেট খেলতে ফিজিক্যাল ও মেন্টাল দিকটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি একজন খেলোয়াড় ভালো পার্ফরম্যান্স করতে চান, ফিজিক্যাল ম্যান্টেইনের জন্য আপনাদের সাহায্য আমাদের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের রান হয়তো কাউন্ট হয় কিন্তু আপনারা যারা আমাদের সুস্থতায় কাজ করেন, তারা যে পারফর্মেন্স করেন তাদের রান টা আর কাউন্ট হয় না। আমরা যখন অসুস্থ হই আমরা শুধু সেবা নিই। কিন্তু আপনাদের যে পরিশ্রম যে টেকনিক্যালিটি তার জন্য আমরা অনেক বেশি কৃতজ্ঞ আপনাদের প্রতি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো তসলিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন-এর সকল সদস্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত সম্মানিত অতিথিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই আমাদের এই প্রচেষ্টার প্রেরণা।
আমরা বিশ্বাস করি—সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও মানবিক পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় মনে করি, ‘ডিসএবিলিটি মানেই ডিজএবল নয়।’ এটি আসলে ‘ডিফারেন্ট এবিলিটি।’ যদি আমরা তাদের সীমাবদ্ধতার পাশে কিছু সক্ষমতা যোগ করতে পারি, তবে তাদের অক্ষমতা অনেকাংশেই কমে আসে। ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন সেই সক্ষমতাই তৈরি করে—মানুষকে নতুন শক্তি, নতুন দক্ষতা ও নতুন আশার আলো দেয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা ফিজিক্যাল মেডিসিন এবং রিহ্যাবিলিটেশনের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশের পুনর্বাসন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স, মনোবিজ্ঞানী ও পরিবারের সদস্যদের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তারা জানান, দুর্ঘটনা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ সঠিক পুনর্বাসন না পাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন না। তাই প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ ও আধুনিক থেরাপি সুবিধা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা মো শাহিনুল আলম। সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো তসলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিএমইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরিন আক্তার, সোসইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।