ভোলার তজুমদ্দিনে বাকপ্রতিবন্ধী যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মামলা নেয়নি পুলিশ

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার তজুমদ্দিনে বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবকের মরদেহ তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার বলছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে; কিন্তু থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি।

নিহত মো. কবির (৩০) উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের লামছি বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।

তজুমদ্দিন থানার ওসি মো. মহব্বত খান বলেন, “শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।”

তিনি বলেন, “মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে।”

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কবির গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার সকালে তার মরদেহ পুকুরে ভেসে ওঠে।

কবিরের ভাই ও প্রতিবেশীরা প্রিয়দেশ নিউজকে জানান, মরদেহে ছিল ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন। তার পায়ের রগ কাটা ছিল। বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় আঘাত এবং চোখ উপড়ে ফেলা ছিল এমনকি পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে।

নিহতের মা বলেন, আমার ছেলে বোবা ছিল। কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। কিন্তু রাসেল, রিয়াজ আর আলাউদ্দিন জমি নিয়ে অনেকদিন ধরেই আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। ওরাই ওরে মারছে।

কবিরের স্ত্রী বলেন, সোমবার ঝগড়া হয়েছিল, ওরা ছুরি নিয়ে এসেছিল। তারপর কবির নিখোঁজ হয়। আজ আমার স্বামীর মুখটাও চিনতে পারিনি।

পরিবারের দাবি, তারা রবিবারই থানায় গিয়ে মামলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওসি তাদের ফিরিয়ে দেন এবং বলেন, “শুক্রবার সকাল ১০টার পর মামলা নেব।” পরে আর কোনো মামলাই নেয়নি পুলিশ।

পরিবারের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি মহব্বত খান প্রিয়দেশ নিউজকে বলেন, ‘মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত কবিরের পরিবার কোনো মামলা দায়ের করতে পারেনি।

বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে এলাকাবাসী প্রতিবাদ মিছিল করে।

শম্ভুপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘এত বড় ঘটনা ঘটলো, অথচ পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি, মামলাও নেয়নি। এটা খুবই হতাশাজনক।’ মেহেদী হাসান নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘একজন বোবা মানুষের সাথে এ ধরনের নির্মমতা অকল্পনীয়। কোন কিছু বলার ভাষা নেই। এই হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।’

এমন পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হাওলাদার। তিনি বলেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা আমি নিজেও কোনদিন দেখি নাই। আমি শোকাহত পরিবারের পাশে আছি এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

তবে নিহতের পরিবার বলছে, প্রথমদিনের পর ওই নেতা কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কেউ আর খোঁজ নেয়নি। খুনের এক সপ্তাহ পার হলেও বিএনপি বা অন্য কোন পক্ষ থেকে কেউ কোন ধরনের খোঁজখবর নেয়নি।

বাকপ্রতিবন্ধী যুবক কবির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাসেল, রিয়াজ ও আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।