
ভোলার লালমোহনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এ অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার রাত ৯টায় লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এসময় তিনি এসব অভিযোগ করেন।
নিজামুল হক নাঈম বলেন, রমাগঞ্জে আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারের মধ্যদিয়ে দলীয় অফিসে যাচ্ছিলাম। এসময় বাজারে পেছন দিকে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১৫ জনেরও বেশি কর্মী আহত হয়েছে। এরমধ্যে ৪/৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, গণভোট এবং নির্বাচনের যে স্বাভাবিক পরিবেশ সবার প্রত্যাশিত ছিল, সেখানে একটি বড় দলের উপজেলা সভাপতির নেতৃত্বে নারী কর্মীদের সাথে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
নিজামুল হক নাঈম জানান, ঘটনাস্থল থেকে আমরা ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তারা অনেক পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এরমধ্যেই আমাদের নেতাকর্মীরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। দফায় দফায় হামলা হওয়ার অনেক পরে সেখানে আমি নৌবাহিনীর দুটো গাড়ি দেখেছি। সন্ত্রাসীরা নৌবাহিনীর উপরেও হামলা করেছে বলে শুনেছি।
এ ঘটনাকে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টের কারণ উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কয়েকজন কর্মী শুক্রবার সকালে রমাগঞ্জের ৬নং ওয়ার্ডের শাকিলের বাড়িতে গণভোট ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এসময় রুবেল নামের এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে কার্যক্রমে বাধা দেন। তিনি নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, গায়ে হাত দেন। এছাড়া তাদের বোরকা টানাটানি করে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপি কর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। সেই অবস্থান পরে সংঘর্ষে গড়ায়।
জামায়াতে ইসলামীর সাথে এই সংঘর্ষে বিএনপির একাধিক কর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


