মসজিদের বরাদ্দ আত্মসাতের চেষ্টা, তথ্য নিয়ে পিআইও’র লুকোচুরি

আবদুর রহমান নোমান: ভোলার লালমোহন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পলাশ সমদ্দারের বিরুদ্ধে টিআর কাবিখার প্রকল্প নিজেরাই বাস্তবায়নের অভিযোগসহ তথ্য লুকানোর অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবায়নাধীন টিআর, কাবিখার প্রকল্প ওয়েবসাইটে দেওয়ার কথা বললেও তিনি ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করেননি।

অভিযোগ উঠেছে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কর্তারকাচারী মসজিদের উন্নয়নে জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু মসজিদের কোন মুসল্লী ওই বরাদ্দের তথ্য জানেন না। টাকা মসজিদের একাউন্টেও জমা হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় কেউ অফিসে অভিযোগ করলে প্রকল্প অফিস থেকে মসজিদে তদন্তে যায়। তখন বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। একপর্যায়ে গত জুমার দিনে মসজিদে টাকার বিষয়টি মুসল্লীরা উত্থাপন করলে কমিটির সভাপতি শিকার করতে বাধ্য হন। এধরণের অনিয়ম যাচাই করতে লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দারের কাছে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তথ্য চাইতে গেলে তিনি লুকোচুরি করেন। ৩ দিন তথ্যের জন্য প্রকল্প অফিসে গেলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে তথ্য সরবরাহ করতে গড়িমসি করেন। শেষে কয়েকটি টিউবওয়েলের আংশিক তথ্য দিলেও পুরো তথ্য সরবরাহ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এমনকি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর, কাবিখার তথ্য উপজেলা ‘তথ্য বাতায়নে’ প্রকাশ করলেও এই অর্থবছরের কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, সেখান থেকে নিতে বললেও গত ৩ দিন অপেক্ষা করেও ওয়েবসাইটে তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল টিআর কাবিখার তালিকা জোরপূর্বক তার অফিস থেকে নিয়ে গেছেন- পিআইও’র বক্তব্যে অনলাইনে এমন নিউজ প্রকাশ করা হয়। বিএনপি সভাপতি জাফর ইকবাল জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে কয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এমন তালিকা চাইতেই পারি। কিন্তু পিআইও যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ভুল।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান লিটন জানান, প্রকল্প অফিসের বাস্তবায়নকৃত টিআর, কাবিখা’র বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে প্রকল্প এলাকার সুবিধাভোগীরা জানতে পারত। স্বচ্ছতা থাকলে দুর্নীতি কমবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য তালিকা প্রকাশ জরুরী। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের লুকোচুরির কারণে কিছু আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

সূত্র মতে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কর্তারকাচারী মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। গত বছরের নভেম্বর মাসে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নয়ন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সেন্টু টাকা উত্তোলন করেন। ওই টাকা মসজিদের একাউন্টে না রেখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ আজিজ এবং পিআইও পলাশ সমদ্দারের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চালায় তারা। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিভিন্ন ঠিকাদারদের পাশাপাশি নিজেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। যার মধ্যে রয়েছে একাধিক টিউবওয়েল। এসব টিউবওয়েল ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলে সর্বমোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভ্যাট বাদ দিয়ে বাকী টাকা পিআইও অফিসের। এধরণের প্রায় ২০টি টিউবওয়েলের কাজ করান পিআইও।

এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ আজিজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দার জানান, কোন প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করিনি। সকল প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে করা হয়েছে। প্রকল্প কমিটি বা সিপিসি কাজ শেষ করেছেন। তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য অফিস সহকারীকে বলে দিয়েছি।