
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো খেলেছিল। এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে মাত্র ২-০ গোলে হারে বাংলাদেশের মেয়েরা।
তবে ওই লড়াকু পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছিলেন, চীনের চেয়েও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। বাস্তবে সেটিই দেখা গেলো।
সিডনিতে বাংলাদেশকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করলো উত্তর কোরিয়া। ম্যাচের প্রথমার্ধে ২টি এবং দ্বিতীয়ার্ধে ৩টি গোল হজম করে বাংলাদেশের মেয়েরা।
তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাংলাদেশকে পরাজিত করেছে। ম্যাচের শুরুতে গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও ভিএআর সিদ্ধান্তে সেগুলো বাতিল হওয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে উত্তর কোরিয়ার খেলায় ছন্দ ফিরে পেতে।
বাংলাদেশ দল আগের ম্যাচে চীনের কাছে হারের পর একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে। দলে সুযোগ পান তোহুরা খাতুন ও আইরিন খাতুন, বেঞ্চে যান শিউলি আজিম ও উমেহলা মারমা।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ং বল জালে পাঠালেও ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলটি বাতিল হয়, কারণ আক্রমণের শুরুতে মিয়ং ইউ জং-এর হ্যান্ডবল ধরা পড়ে। এরপর ২৬ মিনিটে হান জিন হং কাছ থেকে বল জালে পাঠালেও গোলরক্ষক মিলে আক্তারের হাত থেকে বল কিক করে নেওয়ায় সেটিও বাতিল হয়।
৩০ মিনিটে আবারও কিয়ং ইয়ং গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এরপর তিনি একটি হেডে বল বারেও লাগান এবং জিন হং বক্সে ঢুকে একটি শট বাইরে মারেন।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় উত্তর কোরিয়া। আফঈদা খন্দকার বক্সের ভেতরে হং সং ওককে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় তারা। আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিক নায়িকা মিয়ং ইউ জং নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
দুই মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান কিম কিয়ং ইয়ং। চে উন ইয়ং-এর পাস থেকে বক্সের ভেতর তীক্ষ্ণ কোণ থেকে শট নিয়ে তিনি দলের দ্বিতীয় গোল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও একতরফা আধিপত্য ধরে রাখে উত্তর কোরিয়া। ৬২ মিনিটে কোহাতি কিস্কুর ভুলে বল পেয়ে চে উন ইয়ং কাছ থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩–০ করেন। মাত্র দুই মিনিট পর চোয়ে ইল সনের পাস থেকে আবারও গোল করেন কিয়ং ইয়ং, যা ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল।
ম্যাচের শেষ মিনিটে সং চুন সিমের ক্রস থেকে কিম হ্যে ইয়ং হেড করে পঞ্চম গোলটি করেন। এতে বড় জয় নিশ্চিত হয় উত্তর কোরিয়ার।


