ভোলার তজুমদ্দিনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শ্রমিকদল-ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় স্বামীকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সবাই স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এই ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে তজুমদ্দিন থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী।

পুলিশ বলছে, মামলার পর অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এজাহারে নাম থাকা একজন নারীকে (ভুক্তভোগীর দ্বিতীয় স্ত্রী) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে তজুমদ্দিন উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিন, যুবদল কর্মী আলাউদ্দিনসহ মোট সাতজনকে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বাদী সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঢাকায় একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজ করেন। তার দুই স্ত্রী রয়েছে। গত শনিবার রাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর ডাকে তিনি তার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি শ্রমিক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর হাতে আটকা পড়েন। তারা টাকার জন্য তাকে মারধর করে এবং তার প্রথম স্ত্রীকে ফোন দিয়ে এনে চার লাখ টাকা দাবি করে। পরদিন দুপুরে প্রথম স্ত্রী টাকা না দিতে চাইলে, তাকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগে অভিযুক্তরা গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন স্বামী। ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় তারা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।

তজুমদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়।

এই ঘটনায় দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। তজুমদ্দিন উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা মিন্টু।

ছাত্রদল থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছেন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাসেল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন সজীব। যদিও ছাত্রদলের বিবৃতিতে ধর্ষণের ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “ভোলার ওই ঘটনায় প্রাথমিক অভিযোগ ওঠায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল হক জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আমরা অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করছি। তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার, তা-ই করা হচ্ছে।

তবে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জেলা পুলিশসহ প্রভাবশালী মহল নানা চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভোলার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। এই ঘটনায় নিউজ না করার জন্যও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু বিবিসি বাংলাসহ মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে নিউজ হওয়ার পর গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।