
মালয়েশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের শ্রমবাজার খুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রুট ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক সফরে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে, খুব তাড়াতাড়ি এটা খোলা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও শ্রমবাজার খুলতে সরকার কাজ করছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সিলেট জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। তার সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের অর্জন প্রসঙ্গে বলেন, জয়েন্ট ভেঞ্চার স্বাক্ষর ফলপ্রসূ এবং সফল হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ‘ব্রাদার’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। শুধু মালয়েশিয়া কেন, সবদিকেই কাজ শুরু করেছে সরকার। আশা করি, ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যারা দেশে ফিরে এসেছেন, তারা আবার যাওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন সরকার তা করবে। ভিসাসংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে সেটাও দেখা হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে সরকার সহযোগিতা করবে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিহত প্রবাসীদের দেশে আনা হচ্ছে। যারা প্রবাসে অবস্থান করতে চান, তাদের নিরাপত্তায় মিশনগুলো কাজ করছে।
এর আগে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরিফুল হক চৌধুরী বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি রোধে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, ছিনতাই ও অপরাধ রোধে এক সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক ফলাফল দেখতে চাই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে খুব খারাপ হয়ে গেছে, এমন কিছু না। প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় আছে। গত মাসের চেয়ে এই মাসে পরিস্থিতি ভালো। তবু আমরা সময় বেঁধে দিয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো অভিযোগ শুনতে চাই না।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সকল প্রকার চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সভায় বিজিবির উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্ডার সাইটে যেসব রুটে চোরাচালান আসা-যাওয়া করে, তার একটা ম্যাপ আমাকে দেন। বিশেষ করে বিজিবির এখন তেলের ডিপোতে চেক দেওয়া দরকার। এখান থেকে তেল বাইরে যেতে পারে। এ জন্য ওই স্পটগুলোতে আলাদা চেকপোস্ট বসান। বর্ডার এরিয়া যদি কনট্রোল করতে পারি, দেখবেন তেলের সংকট হবে না। সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ এটা যদি অন্যদিকে চলে যায়, জনগণের লাভ কী হবে?
তিনি বলেন, সরকারের ওপর এত চাপ থাকা সত্ত্বেও এত টাকা দেওয়ার পরেও যদি তেল বাইরে চলে যায়- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা (বিজিবি) এ বিষয়ে কঠিন থেকে কঠিনতর অবস্থান নেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন- বর্ডারে কতটুকু জায়গা প্রটেকশন দেওয়া দরকার। আমাদের এখানে গুলি করে হত্যা বা এই জাতীয় জিনিস আমরা কমিয়ে আনতে পারি, সেই ব্যবস্থা নেবেন।
জেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রী প্রশাসনকে তাগিদ দেন। একই সঙ্গে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী ও প্রবাসী যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।


