
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহন উপজেলায় প্রতিবন্ধী মো. বিল্লাল হোসেনকে জড়িয়ে মিথ্যা ও অপপ্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার বিকেলে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকায় পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করে এ অভিযোগ করেন। এ সময় অভিযোগ করা হয় ওই এলাকার জামাল, মফিজ, নাজিম উদ্দিন, বাচ্চু, রাসেল ও সবুজ গত ১৫ ফেব্রুয়ারী গভীর রাতে ঘরে ঢুকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রতিবন্ধী বিল্লাল হোসেনকে গলায় ছুরি দিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা লুটেরও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, আমি একজন প্রতিবন্ধী। যার জন্য আমাকে হুইল চেয়ারে করে চলাফেরা করতে হয়। তবে আমি অনেক কষ্টে কিছু টাকা জোগাড় করি। এরপর ওই টাকা দিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে গরু ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে এলাকার দুষ্কৃতিকারী জামাল, মফিজ, নাজিম উদ্দিন, বাচ্চু, রাসেল ও সবুজ আমার ঘরে ঢুকে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ সময় তারা আমার গরু বিক্রির ও ঘরে থাকা মোট ৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর আমি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে হসপিটাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এসে থানায় একটি এজাহার দাখিল করি। যার জন্য ওই দুষ্কৃতিকারীরা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।
প্রতিবন্ধী বিল্লাল হোসেনের মা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার ছেলে একজন প্রতিবন্ধী হয়ে অনেক কষ্ট করে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছে। ওই টাকা দিয়ে সে ব্যবসা করছে। তবে আমাদের এলাকার সবুজ নামে এক যুবক আমার প্রতিবন্ধী ছেলের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে নানাভাবে তাকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। বর্তমানে আমার ছেলের বিরুদ্ধে তারা মনগড়া বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ বানিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে অপরাধীদের বিচার কামনা করছি।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে রহিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সবুজ জানান, বিল্লাল নিজেই নিজের শরীরে আঘাত করে মানুষজনকে হয়রানি করছে। এছাড়া সে মাদক বিক্রির সঙ্গেও জড়িত। যার জন্য তার এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমরাও একটি মানববন্ধন করেছি।
লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।