পহেলা বৈশাখ শোভাযাত্রার নতুন নাম আসছে, জানালেন সংস্কৃতিমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। তার দাবি, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো বক্তব্য তিনি দেননি।

তবে এবারের আয়োজনকে নতুন আঙ্গিকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে ডাকার ঘোষণা আসছে বলেও জানান মন্ত্রী। ইউনেস্কো ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে স্বীকৃত দিলেই যে সেই নামেই শোভাযাত্রা উদযাপন হবে এরকম কোনো কথা নেই বলেও জানান নিতাই রায় চৌধুরী।​

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে মাগুরা জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের মহম্মদপুর ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি পহেলা বৈশাখের আয়োজন নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার জবাব দেন। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, তার আগের বক্তব্যকে গণমাধ্যম সঠিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেনি। তিনি কোথাও বলেননি যে তিনি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে ফিরিয়ে আনছেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনেস্কো ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে স্বীকৃতি দিলেই যে আমাদের সেই একই নাম ব্যবহার করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দেশীয় ঐতিহ্য ও সর্বজনীনতা বজায় রাখতে এবারের আয়োজনের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, উৎসবের মূল চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার ব্যাপারে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্বের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ হওয়া উচিৎ ছিল। সোনার এই বাংলা কখনও অন্য দেশের দ্বারস্ত হয়নি তবে বাংলার সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এদেশের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অতীতে সঠিক দিশার অভাব ছিল। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নেতৃত্বের এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি শক্তিগুলো বাংলার সম্পদ আহরণ করে নিয়ে গেছে। যার ফলে সমৃদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে আজকের এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।