
কক্সবাজারের টেকনাফে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও সীমান্তঘেঁষা সহিংসতা বৃদ্ধির অভিযোগে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। সোমবার বিকেলে বাস স্টেশন জামে মসজিদের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভৌগোলিকভাবে সীমান্ত ও উপকূলঘেঁষা হওয়ায় টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের টার্গেট করে অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বক্তারা দাবি করেন, সাগরপথে মানবপাচার এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণহানির শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক ট্রলারডুবির ঘটনাগুলোও সেই ঝুঁকির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মির তৎপরতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
মানববন্ধন থেকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়। ফলে অপহরণ, চোরাচালান ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে আরও সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন। কর্মসূচি থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— টেকনাফকে অপরাধমুক্ত করতে যৌথ বাহিনীর নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার অপহরণ, খুন, গুম ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার উপকূলীয় এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি বৃদ্ধি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।


